হেফাজত ছাড়লেন আব্দুর রহিম কাসেমী

হেফাজত ছাড়লেন আব্দুর রহিম কাসেমী
হেফাজত ছাড়লেন আব্দুর রহিম কাসেমী

নিউজথ্রি :: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে সংগঠন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী। আজ শুক্রবার দুপুরে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সেখানে তিনি হেফাজতের নেতাকর্মীদের এমন আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে ইসলামবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবদুর রহিম কাসেমী ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ার জামিয়া ইলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষাসচিব। তিনি হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হেফাজতের এই নেতার সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনি সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যটি  গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠান।

আবদুর রহিম কাসেমী  লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জেলার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় খেদমত করেছেন। তিনি সর্বশেষ মাদ্রাসায় শিক্ষাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে গত বছরের ১ ডিসেম্বর তাঁকে মাদ্রাসার সব দায়দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং সেখানে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়।

হেফাজতের এই নেতা বলেন, ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলাম যে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের যে ক্ষতি হয়, তা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না। তাই ব্যক্তিগতভাবে তিনি এসব কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকেন। পাশাপাশি তিনি  নিজের পরিচালিত মাদ্রাসায় সব শিক্ষক ও ছাত্রকে এসব দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করেন।

আবদুর রহিম কাসেমী বলেন, গত ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি করা এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ হরতাল চলাকালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এসবে তিনি ও তাঁর মাদ্রাসা অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর নাম যুক্ত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা নিতান্তই প্রতিহিংসামূলক মিথ্যাচার ও বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, হেফাজতের ইসলামের চলমান কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। তাদের সব ধরনের নাশকতামূলক কার্যক্রমকে শরিয়তভাবে তিনি অবৈধ মনে করেন । পাশাপাশি যাঁদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে অনুরোধ জানান কাসেমি। #