শিক্ষকের মর্যাদা পাওয়ায় ঝিকরগাছায় উল্লাশ

এম আলমগীর, ঝিকরগাছা :: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিক ও ক্যটালগাররা অবশেষে শিক্ষক মর্যাদা পেয়েছেন । ৩০ মার্চ (সোমবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২১ প্রকাশ করা হয়েছে। ঐ নীতিমালায় কলেজে কর্মরত গ্রন্থাগারিকদের পদের নতুন নাম ‘গ্রন্থাগার প্রভাষক’ এবং সহকারি গ্রন্থাগারিক কাম ক্যটালগারদের পদের নতুন নাম ‘সহকারি শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান)’ করা হয়েছে । এ খবর শোনার পর থেকে গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে এবং মিস্টি বিতরণের সংবাদ পাওয়া গেছে।
এই খবরে উল্লাস প্রকাশ করেছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রন্থাগারিকরা। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও শিক্ষাসচিব মো: মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মো: মোমিনুর রশিদ আমিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে । এছাড়া এ অর্জনের জন্য বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ গ্রন্থাগারিক ও তথ্যায়নবিদ সমিতির(বেলিড) সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৫ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সহকারী গ্রন্থাগারিকদের কর্মচারী অর্থাৎ নন-টিচিং স্টাফ থেকে বাদ দেয় সরকার। কিন্তু তাদের অবস্থান কোন ক্যাটাগরিতে হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে তাঁরা নানাভাবে লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
তাঁরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাওয়ার পরেও স্কুলে নানাভাবে অবহেলিত ছিলেন। সহকারী গ্রন্থাগারিকরা মাউশি অধিদপ্তরের নির্দেশনায় লাইব্রেরি ক্লাস নিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করে চলছেন।

বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা সহকারী গ্রন্থাগারিকদের অফিস সহকারীর সমান মনে করতেন। কর্মচারীদের সাথে বসতে দেন। খাতায় সই করতে দেন। কিন্তু সহকারী গ্রন্থাগারিকদের নিয়োগকালীন যোগ্যতা স্নাতক ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, যা একজন সহকারী শিক্ষকের সমমান।
শিক্ষকের মর্যাদা চেয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিকরা হাইকোর্টে রিট করেছেন। সহকারী গ্রন্থাগারিকদের কেন শিক্ষক মর্যাদা দেয়া হবে না এই মর্মে হাইকোর্ট রুলও জারি করেছেন। হাজার হাজার সহকারী গ্রন্থাগারিক আদালতের দিকে চেয়ে ছিলেন। তবে, তাদের আর আদালতের দিকে তাকাতে হলো না। রায়ের আগেই সরকার ৩০ মার্চ বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২১ প্রকাশে মাধ্যমে স্কুল ও কলেজের গ্রন্থাগারিকদের পদের নতুন নাম ‘গ্রন্থাগার প্রভাষক’ এবং সহকারি গ্রন্থাগারিক কাম ক্যটালগারদের পদের নতুন নাম ‘সহকারি শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান)’ নাম পরিবর্তন করে পরিপত্র জারি করেছেন।

এ খবর জানার পরে মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বাঁকড়া এলাকার স্কুল কলেজের গ্রন্থাগারিক ও সহকারি গ্রন্থাগারিকগণ বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভা করেন। নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, হাফিজুর রহমান, আব্দুল আলিম ডালিম, খাইরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, ফারুক হোসেন, রুবিয়া খাতুন, ফারহানা পারভীন চায়না, শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, শিলা খাতুন প্রমূখ। সভায় যে সমস্ত ব্যক্তি ও সংগঠনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং এ পদ পরিবর্তনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও শিক্ষাসচিব মো: মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মো: মোমিনুর রশিদ আমিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলালউদ্দীন খানসহ সবাইকে মিস্টি খাওয়ানো হয়েছে এবং পরের দিন সবাই স্বস্ব বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের মিস্টি খাওয়ানোর কথা বলেন।
এ ব্যাপারে নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান) আলমগীর হোসেন জানান, সরকারের সদইচ্ছা এবং বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সমিতি, বাংলাদেশ গ্রন্থাগারিক ও তথ্যায়নবিদ সমিতির(বেলিড) নেতৃবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আমাদেও এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।#