যাত্রী সংকটে ক্ষতির মুখে মালিক পক্ষ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় প্রায় এক মাস পর সড়ক গুলোতে চলাচল শুরু করছে যাত্রীবাহি বাস ও ঢাকার পরিবহন।

দীর্ঘদিন পর বাস চলাচল শুরু হলেও কাংখিত যাত্রী না হওয়ায় মালিক পক্ষকে প্রতি দিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে। ঈদের পর পুনরায় বাস চলাচল বন্ধ থাকার খবরে মালিক শ্রমিকদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে সব বয়সের মানুষ, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনে সব কিছুর মত বন্ধ হয়ে যায় সকল রুটে চলচলরত যত্রীবাহি বাস ও ঢাকাগামী পরিবহন। সম্প্রতি সড়কে বাস চলাচল শুরু হলেও মিলছে না কাংখিত যাত্রী।  এতে করে মালিক পক্ষ বেশ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। তবে ঈদের পরে পুনরায় বাস চলাচল বন্ধ থাকবে এমন খবরে শ্রমিকদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। ওই সময়ে কিভাবে চলবে সংসার এই চিন্তায় বিভোর উপজেলার প্রায় ৪শ বাস শ্রমিক।

চৌগাছা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমকি সংস্থা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৫টি রুটে অন্তত ৬৫টি যাত্রীবাহি বাস চলাচল করে। প্রতিটি বাসে ৪ জন করে শ্রমিক নিয়োজিত থাকলে সংখ্যা দায়াড় প্রায় ৩শ। আর কাউন্টারে নিয়োজিত আছেন অন্তত ২০ জন । এ ছাড়া চৌগাছা থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্যেশে সোনালী পরিবহন, জে-লাইন, কহিনুর, আরএম ট্রাভেলস, রয়েল এক্সপ্রেস, সৌদিয়া, সুমন ডিলাক্স, জননী, মামুন পরিবহনসহ বেশ কিছু পরিবহন নিয়মিত ছেড়ে যায়। এ সব পরিবহন ও কাউন্টারে শতাধিক ব্যক্তি কর্মরত আছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৪শ শ্রমিকের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ লকডাউনে কোন আয় রোজগার না থাকায় শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে এই সময়টিতে চরম মানবেতর জীবন যাপন করেছেন।
ঢাকাগামী সোনালী পরিবহনের কাউন্টার প্রধান কৃষ্ণ কুমার মিত্র জানান, গত মাসের ২৬ তারিখ হতে লকডাউনের কারনে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে আমরা সকলেই অনেক কষ্টে দিন পার করেছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের ১৬ তারিখ হতে শুরু হয়েছে পরিবহন চলাচল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঢাকা যাওয়া যাত্রী খুবই কম। ফলে মালিক পক্ষকে কোন টাকা দিতে পারছি না, যা আয় হচ্ছে তা শ্রমিক ও তেল খরচে শেষ। তারপরও পরিবহন যে চলছে এতেই সন্তুষ্ঠু কিন্তু ঈদের পর বন্ধ হওয়ার খবরে আমরা ভিষন দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।
চৌগাছার যাত্রীবাহি বাসের কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় পর সড়কে বাস চলায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। সামনে ঈদ আর কিছু না হোক পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্তত ভাল খাবার তুলে দিতে পারব এতেই খুশি। কিন্তু আবারও বন্ধ হবে বাস কিভাবে চলব ওই সময়ের দিনগুলো সেই চিন্তায় বিভোর। বাস চালক নজরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, ফিরোজ কবির বলেন, সড়কে বাস চললে আমরা ভাল থাকি, আর না চলছে সব থেকে কষ্টে যায় দিন গুলো। বর্তমানে বাস চলছে ঠিকই কিন্তু সড়কে যাত্রী খুবই কম। অবৈধ যানবাহন গুলো প্রতিযোগীতা করে যাত্রী নিয়ে চলে যাওয়ায় আমাদের যাত্রী হচ্ছেনা। চৌগাছা থেকে যশোর যেতে সড়কে যে তেল খরচ হচ্ছে সেই টাকা উঠানোই কষ্ট। দিন শেষে শ্রমকিরা তাদের পারিশ্রমিক ও তেল খরচ বাদ দিয়ে কোন টাকা মলিক পক্ষকে দিতে পারছেনা। এই অবস্থায় আবার বাস চলাচল বন্ধ হওয়ার খবরে আমরা চিন্তিত।

চৌগাছা সড়কে ৪টি বাসের মালিক ফরিদউজ্জামান বলেন, লকডাউন শেষে বাস চলাচল শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনও কোন টাকা আমি পাইনি। যা রোজগার হচ্ছে তা শ্রমিক ও তেল খরচে শেষ। তারপরও শ্রমিকদের দিক বিবেচনা করে সড়কে বাস চালাতে হচ্ছে।
চৌগাছা মটরযান শ্রমকি সংস্থার সভাপতি পৌর কাউন্সিলর সাহিদুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের সময়ে আমার শ্রমিক সদস্যরা নিদারুন কষ্টে দিন পার করেন। স্বল্প আয় কোন টাকা তাদের জমানো থাকেনা, তাই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হলে তাদের কষ্টের কোন শেষ থাকেনা। তারপরও মহামারিতে কারও হাত নেই তাই কষ্টকে সাঙ্গি করে তারা বেঁচে আছেন।
চৌগাছা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আব্দুল হালিম চঞ্চল বলেন, মহামারি করোনার কারনে চরম দুরাবস্থায় বাস মালিক ও শ্রমিকরা। সড়কে এখন বাস চলছে ঠিকই কিন্তু ছোট যানবাহনের কারনে যাত্রী খুবই কম হচ্ছে, এতে করে মালিক শ্রমিক সকলেই ক্ষতির সম্মুখিন। আমরা শ্রমিকের মুখের দিক তাকিয়ে সড়কে বাস চালাচ্ছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠদের গুরুত্বের সাথে দেখা জরুরী বলে তিনি মনে করছেন। #