বোরো চাষ : ভাল ফলনের আশায় ঝিকরগাছার কৃষক

এম আলমগীর, ঝিকরগাছা থেকে :: দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। এই সবুজের ডোগায় বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। সবকিছু ঠিক থাকলেই বৈশাখ মাসে কাটা পড়বে কৃষকের স্বপ্নের ফসল বোরো ধান। সোনালী স্বপ্নে মেতে উঠবে কৃষক-কৃষাণীর মন। নবান্নে উৎসবে নতুন স্বপ্নের মোড় নেবে কৃষক পরিবারে।
গত মৌসুমে ধানের দাম বেশী হওয়ায় চলতি ইরি ধান মৌসুমে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় ধান চাষে বেশী মনোযোগ দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় ধানের উৎপাদনও বেশী হবে বলে আশা করছে উপজেলার সকল কৃষক।
ইরি ধান চাষে খরচ বেশী হওয়ার কারণে গত বছর কৃষকের মাঝে ধান চাষের আগ্রহ অনেক কম ছিল। ধান চাষের উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল চাষীরা। কিন্তু গেল বছর আমন ধানের ভাল দাম পাওয়ায় চলতি বছওে ইরি মৌসুমে ধান চাষে আগ্রহী হয়েছে মানুষ। অনেকেই চাষাবাদ ছেড়ে দিলেও তারা আবার চাষে ফিরে এসেছে। যেকারণে গত বছরের চেয়ে এবার বেশী জমিতে ইরি ধান চাষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি ইরি মৌসুমে ঝিকরগাছা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ধান উৎপাদন হবে এমনটাই আশা করছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে কথা হয়ে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক শিমুল কবীর, রেজাউল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, অহেদ আলী, আহম্মদ আলী, বাবুল আক্তার, মন্টু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, মাস্টার মনিরুজ্জামান মিন্টু, আশরাফুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম সাথে। সকলের অভিমত প্রায় একই। তারা জানান, জমিতে ইরি ধান চাষে খরচ অনেক বেশী। পানির সেচ, সার, কীটনাশক সহ শ্রমিক খাটিয়ে লাভবান হওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু আমন চাষের চেয়ে ইরি চাষে ফলন বেশী হওয়ার ফলে কৃষক লাভবান হয়। গত মৌসুমের মত ধানের দাম বেশী হলে কৃষক লাভের মুখ দেখবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসরণ অধিদপ্তরের তথ্য মোতাবেক চলতি বছরের ১৭ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে ইরি ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ধান চাষের পরিমাণ ১৮ হাজার ২শ হেক্টর।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, গত মৌসুমে কৃষক ধানের দাম বেশী পাওয়ার চলতি মৌসুমে ধান চাষ অনেক বেড়েছে। ইর চাষে বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষক লাভবান হবে বলে আমরা আশা করছি। #