ভাইরাস আতংকে চৌগাছায় কমেছে গম চাষ

ভাইরাস আতংকে চৌগাছায় কমেছে গম চাষ
ভাইরাস আতংকে চৌগাছায় কমেছে গম চাষ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :: যশোরের চৌগাছায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ৫ হেক্টর কম জমিতে গম চাষ হয়েছে। ধানের দাম ভাল ও গমে ভাইরাস আতংকে গম চাষ কম বলে জানা গেছে। তবে গম চাষ বৃদ্ধির লক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে নানা জাতের গম চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৯০ হেক্টর জমিতে। গত কযেক বছরে গমে ভাইরাস লাগার কারনে কৃষক বেশ ক্ষতির সম্মুখিন হয়। যার কারনে উপজেলার বহু কৃষক গম চাষ করার পরিবর্তে ওই জমিতে ধান সহ নানা ধরনের ফসলের চাষ করেছেন।

উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নে ২০ হেক্টর, স্বরুপদাহ ইউনিয়নে ২৬ ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর সহ ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মাঠ গুলোতে বিচ্ছিন্ন ভাবে গমের চাষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কৃষি অফিস উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে কৃষক জিয়াউর রহমানের ৬ বিঘা জমিতে গম চাষের প্রদর্শনী প্লট করেছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ গমে শীষ বের হতে শুরু করেছে। কৃষক জিয়াউর রহমানের এই প্রদর্শনী প্লট এলাকার কৃষককে গম চাষে আগ্রহী করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।

সূত্র জানায়, চৌগাছার কিছু নিচু এলাকা ছাড়া বাকি সব এলাকার মাটি গম চাষের জন্য বরাবরই বিখ্যাত। এমন এক সময় ছিল এ জনপদের চাষিরা ব্যাপকভাবে গম চাষ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর হঠাৎ করে গমে ভাইরাস দেখা দেয়ায় কৃষক বেশ ক্ষতির সম্মুখিন হয়। যার কারনে চাষিরা গমের পরিবর্তে ওই জমিতে ধান সহ অন্যান্য ফসল ফলাতে শুরু করেন। উপজেলার মাটির গুনাগুন ভেদে বিভিন্ন জাতের গম চাষ হয়ে থাকে।

এ বছর বারী-২৮, বারী-৩০ ও বারী-৩৩ জাতের গম চাষ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই জাত গুলোতে ফলন বেশি ও রোগ বালাই কম হওয়ার কারনে কৃষকদের অধিক পছন্দ। খড়িঞ্চা নওদাপাড়ার কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, এমন এক সময় ছিল শীত এলেই সব চাষিরা প্রতিযোগিতার সাথে গম চাষ করতেন। কে কত বেশি গম চাষ করবে এই নিয়ে চলতো প্রতিযোগিতা। কিন্তু বেশ কয়েক বছর গমের কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়া ও গমে ভাইরাস দেখা দেয়ায় মানুষ গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি চলতি মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছেন। এখনও পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যা হয়নি। যদি আবহাওয়া ভাল থাকে তাহলে ধানের থেকে গমে তিনি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইচউদ্দিন বলেন, বিগত বছরে গমে ভাইরাস দেখা দেয়ার কারণে কৃষকের মাঝে এক ধরনের ভীতি দেখা দেয়। কৃষি অফিস উপজেলার প্রতিটি এলাকায় যেয়ে কৃষককে গম চাষে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। কৃষক আবারও গম চাষে বেশ মনোযোগী হয়ে উঠেছে। আশা করছি এখন থেকে প্রতি বছর ধীরে ধীরে গম চাষ বৃদ্ধি পাবে।#