বেনাপোলে ফোন ভাঙার জন্য দুঃখিত, কোলকাতায় পূজার উদ্বোধন করেনি  : সাকিব আল হাসান

https://news3.com.bd/wp-content/uploads/2020/11/সাকিব-আল-হাসান-1.jpg
সাকিব আল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক :: কোলকাতায় যাওয়ার সময় বেনাপোলে এক ভক্তের ফোন ভাঙ্গার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া কলকাতায় কালীপূজার অনুষ্ঠানে তিনি পূজা উদ্বোধন করেন নি বলে দাবি করেছেন। সোমবার ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সাকিব আল হাসান বলেন, তিনি পূজার উদ্বোধন করেননি। তিনি সেখানে পৌঁছানোর  আগেই পূজার উদ্বোধন করা হয়।  এরপরও তিনি যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

সাকিব বলেন,  আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। দুটি বিষয় পরিষ্কার করার জন্য আমার এই ভিডিও করা। প্রথমটি ফোন ভাঙা নিয়ে। আমি বুঝতে পারি না অন্য একজনের ফোন ভাঙলে আমার কী উপকার হবে বা আমি কী বেনিফিট পাব। আপনারা হয়তো এটার ভালো উত্তর দিতে পারবেন। যার ফোন ভাঙা নিয়ে কথা হচ্ছে, আমি তার ফোনটি ইচ্ছা করে ভাঙিনি। যেহেতু করোনাকালীন সময়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছিলাম।  ওখানে বেশ ভিড় ছিল, এ অবস্থাতেও সবাই চেষ্টা করছি্ল ছবি তুলতে, আর আমিও চেষ্টা করছিলাম কীভাবে তাদের কাছে না গিয়ে আমি  ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করতে পারি।

এ অবস্থায় একজন উৎসুক ব্যক্তি আমার শরীরের উপর দিয়ে এসে ছবিটি তুলতে যায়। আমি তাকে সরিয়ে দিতে গেলে তার হাতের সাথে আমার হাত লাগে এবং তার ফোনটি পড়ে যায়, পরে হয়তো ভেঙেও গিয়েছে।  যেভাবেই হোক তার ফোন ভাঙার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবেঁ আমার মনে হয়, তারও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ ছিল। বিশেষ করে করোনার সময় সবারই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

দ্বিতীয়  ঘটনাটি খুবই সেনসিটিভ। আমি প্রথমেই বলতে চাই যে, আমি নিজেকে একজন গর্বিত মুসলমান হিসেবে মনে করি এবং আমি সেটাইপালন করার চেষ্টা করি। তবেঁ ভুল ত্রুটি হবেই। ভুল ত্রুটি নিয়েই আমরা জীবনে চলাচল করি। তাই আমার কোনো ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আপনাদের মনে যদি কষ্ট দিয়ে থাকলে সেজন্যও  ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

এখন আসি পূজার বিষয়ে। সব মিডিয়াতে নিউজ এসেছে যে, আমি ওখানে পূজা উদ্বোধন করতে গিয়েছি। বাস্তবে আমি কখনো যায়ওনি কিংবা পূজা উদ্বোধন  করিওনি। এটির প্রমাণ আপনারা অবশ্যই পাবেন। অনেক সাংবাদিক ভাইবোনেরাই সেখানে ছিলেন। আপনারা যদি ইনভাইটেশন কার্ডটা দেখেন তাহলে দেখবেন কে আসলে ওটার (পুজার) উদ্বোধন করেছেন। সেটি উদ্বোধন হয়েছে আমি যাবার আগেই। যেখানে প্রোগ্রামটি হয়েছে সেটি অবশ্যই পূজা মণ্ডপ ছিল না। পাশে আরেকটি স্টেজ ছিল সেখানেই অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিটব্যাপী সে অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। এখানে কোনো ধর্ম, বর্ণ কোনো কিছু নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

অনুষ্ঠান শেষে যখন আমাকে গাড়িতে উঠতে হবে, ওখানে অন্যসব পথ বন্ধ ছিল, যাওয়ার পথ ছিল পূজা মণ্ডপের সামনে দিয়েই । সেখান দিয়েই আমি গিয়েছি। যাওয়ার সময় পরেশ দা, যিনি আমাকে ইনভাইট করেছিলেন, তার অনুরোধে আমি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করি। যেহেতু কলকাতায় আমি অনেক দিন খেলেছি, কলকাতার মানুষ আমাকে পছন্দ করে, ওখানকার সাংবাদিকরা অনেক উৎসুকও ছিলেন। সবার অনুরোধে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের সময় একটি ছবি তোলা হয়।

দুই মিনিটের যে সময়টা আমি পূজা মণ্ডপে ছিলাম সেটা নিয়ে সবাই বলেছে। তারা ধারণা করছে যে, আমি পূজার উদ্বোধন করেছি। যেটি আমি কখনোই করিনি এবং সচেতন মুসলমান হিসেবে সেটি আমি করব না। তারপরও হয়তো ওখানে যাওয়াটাই আমার ঠিক হয়নি। সেটি যদি আপনারা মনে করে থাকেন অবশ্যই আমি এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে যেন এমনটি আর না ঘটে সেজন্য আমি চেষ্টা করবো।’ #