বাঁচতে হলে জানতে হবে, মানতে হবে

নিউজথ্রি :: মহামারি করোনাকালে অনেকেই হোম অফিস করছেন। ফলে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ, গাড়ি করেই যাতায়াত, বাড়িতে শুয়ে বসে মোবাইল নিয়ে থাকার মতো অভ্যাসগুলো আমাদের শারীরিক ক্ষতি করে।

গবেষণা বলছে, এমন জীবনযাপনে ক্যানসারের মতো একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও শরীরে হাড়ের সমস্যা, হজমের সমস্যা, ওবেসিটির মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। দৈনন্দিনের কাজে অনিয়ম থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তবে কয়েকটা দিক মাথায় রাখা জরুরি। নয়ত সমস্যা বাড়তে পারে। কী কী ভুল রয়েছে আপনার রোজনামচায়? মনে করাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডায়েটের অনিয়ম

ওজন কমানোর জন্য অনেকেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন। অথবা সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করেই মনমতো ডায়েট প্ল্যান করে নেন। এতে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ভুল ডায়েটের কারণে মৃত্যু হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। তাই খাওয়ার বিষয়টিতে নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক পদ্ধতিতে ডায়েট, রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত তেল-মশলা জাঙ্কফুড বর্জন শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ধূমপান এবং মদ্যপান

ধূমপান এবং মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। প্রতি বছরই অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ ধূমপান। পাশাপাশি রয়েছে মদ্যপানও। অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপান দুই-ই জীবনযাপনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। ওজন বাড়ায়। কাজের মান হ্রাস করে। পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি তো রয়েছেই।

পানির ঘাটতি

বিশেষজ্ঞরা বলেন দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি খাওয়া দরকার। শরীরে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছালেই আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেহের বর্জ্য বের করে দিতেও সাহায্য করে পানি।

অপর্যাপ্ত ঘুম

বেশিরভাগ মানুষ ইনসোমনিয়ায় ভোগেন। দীর্ঘ সময়ে ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা বা ঘুমোনোর আগেও মোবাইল নিয়ে শুয়ে থাকার কারণে সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন একজন মানুষের অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তবে যখন তখন অতিরিক্ত ঘুমও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। এতে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।

নেতিবাচক চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা

নেতিবাচক চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা অভ্য়াসই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। সকলেই মাঝেমাঝে নেতিবাচক হয়ে পড়ি। জীবনে কিছুই যেন ঠিক মতো হচ্ছে না, এই ধরনের চিন্তা আমাদের গ্রাস করে। কিন্তু আবার কিছু দিনের মধ্যে সেগুলো ঝেরে ফেলে ফের নতুন উদ্যমে জীবনযাপন করি। অনেকেই এই নেতিবাচক চিন্তা থেকে বেরোতে পারেন না এই ধরনের সমস্যা পরবর্তীতে জটিল মানসিক সমস্যার আকার নিতে পারে।

খালি পেটে চা

চা বা কফি পান খালি পেটে করলে অম্বল হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যেস থাকলে এই অম্বল থেকেই গ্যাসের ক্রনিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যারা কফি বা চা চিনি মিশিয়ে পান করেন তাদের সমস্যা আরও গভীরে যেতে পারে। কারণ চিনি বুক জ্বালা ও হজমের সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত চিনি সুগারেরও কারণ হতে পারে।#

* ঢাকাটাইমস