বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই

বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই
বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই

নিউজথ্রি :: দেশ  বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই।   আজ শনিবার সকালে ধাকার সূত্রাপুরে নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। স্বজনরা সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি টের পান। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এটিএম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল আহমেদ জানান, কিছুটা সুস্থ হওয়ায় গতকাল বিকালে তার বাবা হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছিলেন।  ছোট ভাই সালেহ জামান জামান, বাদ জোহর জানাজা শেষে এটিএম শামসুজ্জামানকে জুরাইন কবরস্থানে তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীরের পাশে সমাহিত করা হবে ।
উল্লেখ্য, এটিএম শামসুজ্জামানকে বুধবার সকালে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । তার অক্সিজেন লেভেল কমে গিয়েছিল। তবে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শুক্রবার বিকালে তাকে বাসায় নেয়া হয়।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম কাজ শুরু করেন ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে । তিনি প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ‘জলছবি’ সিনেমার জন্য। ১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে এটিএম শামসুজ্জামানের অভিষেক হয় । তিনি ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক হিসেবে প্রথম আলোচনা আসেন।

এটিএম শামসুজ্জামান ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ নামের প্রথম সিনেমা পরিচালনা করেন । এরপর তিনি ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ২০১২ সালে রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এই শক্তিমান অভিনেতা ।
তিনি ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হব। গুনি এই শিল্পি ২০১৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এটিএম শামসুজ্জামান   অভিনয়ের বাইরে কাহিনিকার, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও সমান দক্ষ্তার সাথে কাজ করেন।  #