বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হয় : মনির

এম আলমগীর, ঝিকরগাছা :: যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্নসম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির বলেছেন, বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরঞ্জীব, তার চেতনা অবিনশ্বর। মুজিব আদর্শে শানিত বাংলার আকাশ-বাতাস, জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবহমান থাকবে। জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ পালন করছে।
সোমবার বিকালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড (রাজবাড়িয়া) আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন,বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হতে থাকে। তারা এ দেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে নানা উদ্যোগ নেয়। শাসকদের রোষানলে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও যেন নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল মোশতাক সরকার। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা হয়। বিচার শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ললাটে যে কলঙ্কতিলক পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ৩৫ বছরেরও বেশি সময় পর ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সেই কলঙ্ক থেকে জাতির মুক্তি ঘটে। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় অনুযায়ী ওই দিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর অনেক পরে খুনি ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদকে এ বছর ফাঁসি দেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় বাকি খুনিদের সাজা এখনও কার্যকর করা যায়নি। অতিদ্রুত তাদের দেশের মাটিতে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবী জানান তিনি।
স্থানীয় রাজবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান মোড়লের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক নুরুল হক গাজীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ। বিশেষ আলোচক ছিলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আদম শফিউল্লাহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, হাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাতক মাস্টার এনামুল কবীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম, বাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হেলালউদ্দীন খান, হাজিরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান,আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক, লিয়াকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, কাশেম আলী মোড়ল, আব্দুল মজিদ, আতিয়ার রহমান, গোলাম মোস্তফা, আবুল হোসেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা আলমগীর বাসার, যুবলীগ নেতা মিলন হোসেন সাদ্দাম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্নআহবায়ক লোটাস জোহা, সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ মিলন, ছাত্রনেতা ইছানুর রহমান, আব্দুস সালাম প্রমূখ। #