পেঁপে চাষে সফল বিদ্যুৎ বাজার দরে হতাশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :: প্রচুর পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে সর্বমহলে বেশ জনপ্রিয়। আর এই পেঁপের চাষ করে ফলনে সফলতা পেয়েছেন বিদ্যুৎ কুমার রায়। আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন এমন আশায় তিনি পেঁপে চাষে ঝুঁকে পড়েন।

তিনি লিজ নেয়া ২৩ শতক জমিতে পেঁপের বাগানটি গড়ে তুলেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় পেঁপের চাষ করে তিনি চাষী হিসাবে সফল। কিন্তু তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, লাভের আশায় টাকা খরচ করে তিনি পেঁপের আবাদ করেছেন। কিন্তু সেই পেঁপের বাজার মূল্য বর্তমানে চরম ভাবে পড়ে গেছে। যদি আগামীতে মূল্য না বাড়ে তাহলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
সবজি ও পাকা ফল হিসেবে পেঁপে বেশ জনপ্রিয়। পেঁপেতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন। শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় বাড়ির আঙিনায় রোপণ করা হতো পেঁপের চারা। চাহিদার উৎকর্ষতায় কালীগঞ্জে এখন সেই পেঁপের বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। লাভবান হওয়ায় অনেকেই পেঁপের চাষে ঝুকছেন। তেমনি একজন চাষী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গুঞ্জনগর গ্রামের শিবুপদ রায়ের ছেলে বিদ্যুৎ কুমার রায়।
সরেজমিন তার কাদিপুর গ্রামের মাঠের পেঁপে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য পেঁপে। তিনি অপরের নিকট থেকে ২৩ শতক জমি লিজ নিয়ে সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন এই পেঁপের বাগান। জমিতে ২৭৫টি শাহী জাতের চারা রোপণ করেন। জমি চাষ, চারা ক্রয়, রোপণ, শ্রমিক, সারসহ এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।। তিন দফায় মাত্র চার হাজার ২০০ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পেরেছেন। বিদ্যুৎ কুমার বলেন, আগামীতে আরও এক একর জমিতে পেঁপে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু যদি বাজার দর এভাবে কমতে থাকে তাহলে চাষ করা আর সম্ভব হবে না।
পেঁপের আবাদকালে একজন কৃষককে রোগ বালাই দমন সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হয়। পাতা কুচকানো, গোড়া পচা রোগ, মোজাইক রোগ ও ছত্রাকনাশকসহ বিভিন্ন রোগ পেঁপে গাছে আক্রমণ করে থাকে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ কুমার বলেন, গত দুই মাস আগে তিনি যে পেঁপে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ২৮ টাকা দরে বিক্রি করেছেন সেই পেঁপে বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তার বাগানে এখনো অনেক পেঁপে রয়েছে। কিন্তু বাজার দর কম বলে তিনি তা তুলছেন না। তবে বাজার দর ভালো না হওয়ায় ছোট সাইজের গুলো সবজি হিসাবে এবং বড় গুলো পাকিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় কৃষক দলিল উদ্দিন মোল্যা বলেন, বিদ্যুৎ কুমার হঠাৎ করেই মাঠে পেঁপে চাষ শুরু করেন এতে তিনি সফলও হয়েছেন। তার চাষ দেখে আমাদের মাঝে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। একই গ্রামের অপর কৃষক অজয় গাঙ্গুলী বলেন, বিদ্যুৎ পেঁপে চাষ করে সফল। তার বাগানে সারি সারি গাছে অসংখ্য পেঁপে ধরেছে। দেখলে যে কারো ভালো লাগবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পেঁপেতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি পেঁপে চাষের উপযোগী। কৃষকদের পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বেকার যুবকরা পেঁপে চাষে এগিয়ে এলে তারা লাভবান হবেন। #