পুষ্টিগুনেভরা বারমাসী সবজি কলারমোচা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের বারমাসী সবজির মধ্যে অন্যতম একটি সবজি হচ্ছে কলার মোচা। গ্রাম বাংলায় ঘরের আনাচে কানাচে বলাচলে বিনাযতেœ বেড়ে উঠে কলাগাছ। কলার মোচা দিনদিন সব শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি সবজিতে রুপ নিতে শুরু করেছে, তাই বাজারেও এর বেশ কদর বেড়েছে।
কলা একটি পরিচিত ফল, আর এর মোচা গ্রাম কিংবা শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি সবজি। একটি কলাগাছ লাগানোর পর তা আপন গতীতেই বেড়ে উঠতে শুরু করে। বলাচলে একটু থাকার জায়গা পেলেই সে নিজেই নিজের খেয়াল রাখতে পারে। কলাগাছটির পরিপূর্ণ বয়স হলেই গাছের অগ্রভাগ হতে মোচা বের হয়। এরপর থরে থরে কলা ধরতে শুরু করে। কলার কাঁদির নেচের অংশে থাকা মোচা। মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় একটি সবজি বলে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের মানুষ এক সময় এই মোচা কেটে ফেলে দিলেও এখন রীতিমত তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান একাধিক কৃষক। বছরের পুরো সময়টা জুড়ে মোচা বাজারে পাওয়া যায় বলে এর কদরও বেশি।
কলার মোচা দেখাতে যেমন সুন্দর তেমনী পুষ্টিগুনে ভরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, ১০০ গ্রাম মোচায় রয়েছে প্রোটিন ১ দশমিক ৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩২ মিলিগ্রাম. কার্বোহাইড্রেট ৫ দশমিক ১ গ্রাম, ফসফরাস ৪২ মিলিগ্রাম। মোচা কর্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় দেহ গঠনের কাজে সাহায্য করে। মোচায় লৌহ থাকায় এটি খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। মোচায় যে পরিমান আঁশ পাওয়া যায় তাতে সহজে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মোচায় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকায় এটি শিশুদের দাঁত ও হাঁড় মজবুত করতে সাহায্য করে। মোচায় প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকার কারনে এটি খেলে হাইব্লাডপ্রেসার কমে।
উপজেলার বড়খাঁনপুর গ্রামের সফল কলাচাষি বনি আলীম জানান, এ জনপদের মানুষ কখনও বানিজ্যিক ভাবে কলাচাষ করেনি। বাড়ি ঘরের আশপাশে পতিত জমিতে যেনতেন ভাবে কলা লাছ লাগাতো। সেখান থেকে যে কলা হতো ততেই চলত খাওয়া, আততিয়তা কিংবা বাজারে বিক্রি করা। কিন্তু সময়ের সাথে সব কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে, চাষিরা এখন বানিজ্যিক ভাবে কলার চাষ করছেন। কাঁচা কলা বিক্রির পাশাপাশি বর্তমানে কলার মোচারও বেশ চাহিদা হয়েছে, বিক্রি হচ্ছে কলার থোড়। কলার সব কিছুই মানুষের শরীরের জন্য অত্যান্ত উপকারী তাই বৃদ্ধি পাচ্ছে কলাচাষ, কৃষকও বেশ লাভবান হচ্ছেন। #