পিতা হত্যার শিকার :  মা ভাই জেলে : বাড়িতে একা  শিশু সুরাইয়া 

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :: ভগ্যের কী নির্মম পরিহাস শিশু সুরাইয়ার (১১)। জন্মদাতা পিতা হত্যার শিকার, হত্যার দায়ে  মা ও একমাত্র ভাই জেলের চার দেয়ালে বন্দি। পিতা মাতা আর ভাইকে নিয়ে যে ছাদের নিচে খুনসুটি করতে করতে শিশুটি রাতে ঘুমাতো, সেই ছাদের নিচে এখন চাচা চাচি কিংবা ফুফা ফুফির সাথে তার রাত কাটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুটির পাশে মায়ের  ভালবাসা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের দাঁড়াতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র একদিন আগে বুধবার দিবাগত রাতে চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের দূর্গাবরকাটি গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে খুন হয় পিতা আহাদ আলী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা শিকার করে নিহতের একমাত্র ছেলে হারুন অর রশিদ ওরফে সোহান। নিহতের স্ত্রী জেসমিন নাহার হত্যার বিষয়টি জানতো তাই পুলিশ তাদের আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। নিহত আহাদ আলী, স্ত্রী জেসমিন নাহার, ছেলে সোহান আর শিশু কন্যা সুরাইয়া খাতুন এই ৪ সদস্যের ছোট পরিবার ছিল আহাদ আলীর।
প্রতিবেশিরা জানান, আহাদ আলীর পরিবারে সুখ শান্তির কোন কমতি ছিলনা। কিন্তু আহাদ আলী হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ধীরে ধীরে সংসারে দেখা দেয় নানা অশান্তি। একপর্যায়ে সেই অশান্তির ইতি ঘটে হত্যাকাকন্ডের মধ্য দিয়ে।
সরেজমিন হত্যার শিকার আহাদ আলীর বাড়িতে যেয়ে দেখা যায়, নিহতের আপন স্বজনসহ প্রতিবেশিরা বাড়িটিতে তার একমাত্র শিশু কন্যাকে নিয়ে চুপচাপ বসে আছেন। তারা নানা ভাবে শিশু সুরাইয়াকে শান্তনা দিচ্ছেন, সে কখনও চুপ করে চোখ যতদুর যাই তাকিয়ে থাকছে, আবার হঠাৎ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। কখনও বাবা বলে আবার কখনও মায়ের জন্য বুকফাটা আর্তনাদ করছে। শিশুটির আর্তনাদে সেখানে উপস্থিত সকলের চোখের পাঁপড়ি কষ্টের অশ্রুতে ভিজে উঠে।
শিশুটির চাচা আহম্মদ আলী বলেন, সুরাইয়ার পিতা আজ না ফেরার দেশে আর মা ও একমাত্র ভাই খুনের দায়ে জেলখানায়। আমরা তাকে নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছি। কোন শান্তনাই তার কান্না বন্ধ হচ্ছেনা। হত্যাকান্ডের পর হতে শিশুটিকে নিয়ে অন্যরকম এক কষ্টে আছি ।
সুরাইয়ার ফুফু জয়নব বেগম বলেন, প্রত্যেক শিশুর কাছে তার সব থেকে আপনজন হচ্ছে মা আর বাবা। বাবা বেঁচে থাকতে বাড়ির বাইরে থেকে যখনই বাড়িতে আসত শিশু সুরাইয়ার ছুটে যেত বাবার কাছে, মেয়েকে বুকে আগলে ভালবাসায় শিক্ত করত, তিনি আজ দুনিয়া ছাড়া। রাতে ঘুমানোর আগে মা আর বড় ভাইয়ের সাথে খুনসুটি করতে করতে সে ঘুমিয়ে যেত তারাও আজ চোখের আড়ালে। আমরা বাবা মায়ের মত স্নেহ ভালবাসার চাদরে তাকে আগলে রাখার চেষ্টা করছি, তবে মা বাবা তো মা বাবাই, তাই না ?

শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিতার মৃত্যু আর মা ও ভাই জেলখানায় এই পরিস্থিতিতে শিশুটির মনবল বৃদ্ধিতে আপনজনদের বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিশুটি পূর্বে যে ভাবে তার খেলার সাথিদের সাথে মিশত, খেলত সেভাবে তাকে মিশতে দিতে হবে, তাহলে সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। #