তাণ্ডব বন্ধ না করলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিউজথ্রি :: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ সব ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানমাল ও সম্পদ রক্ষার্থে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

আজ সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত দুইদিন ধরে কতিপয় উশৃঙ্খল ব্যক্তি ও গোষ্ঠি ধর্মীয় উম্মাদনায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার সরকারি সম্পদ ধ্বংস করছে। যার মধ্যে উপজেলা পরিষদ, থানাভবন, সরকারি ভূমি অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বাড়িঘর, প্রেসক্লাবসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করে যাচ্ছে। এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতিসহ সকল প্রকার উশৃঙ্খল আচরণ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় জনগণের জানমাল ও সম্পদ রক্ষার্থে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে    সরকার  ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরুদ্ধে হেফাজতকর্মীদের গত শুক্রবারের বিক্ষোভে পুলিশ ও সরকারদলীয় লোকজনের হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে।

হেফাজতের হরতালে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা করে হেফাজতের কর্মীরা। গত শুক্রবার ও শনিবারও চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালিয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

হেফাজতের এমন সহিংসতার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকার উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যে, স্বার্থাণ্বেষী মহল এতিম ছাত্র ও শিশুদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামিয়ে সরকারি সম্পত্তিসহ জনগণের সম্পদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়িতে অগ্নি সংযোগসহ নানা ধরণের অপকর্মে নিয়োজিত করায় প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। তাছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য, গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব গুজব রটনাকারীসহ আইন অমান্য করে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। #