চৌগাছার পশুহাট বন্ধ : বিপাকে খামারীসহ হাট সংশ্লিষ্ঠরা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :: চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পশুহাট লকডাউনে কারনে রয়েছে বন্ধ। পশুহাট বন্ধ থাকায় কুরবানী ঈদ উপলক্ষে প্রস্তুত করা পশু নিয়ে মহাবিপাকে আছেন পশু পালনকারীরা। অপর দিকে হাটের সাথে যুক্ত শতাধিক ব্যক্তির দিন কাটছে অনেক কষ্টে।
চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের পাশে অবস্থিত চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পশুহাট। সপ্তাহে রবি ও বুধবার বসে এই হাট। প্রতি হাটে শ’শ পশু বেচা কেনা চলে। আর কুরবানী ঈদ এলে হাটে গরু রাখার জায়গা সংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, খুলনা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলাতে যায় এই হাটের পশু। কিন্তু এ বছর মহামারি করোনার কারণে সব কিছুই যেন থমকে গেছে।
রবিবার ছিল সাপ্তাহিক হাটের দিন। সরেজমিন পশু হাটে যেয়ে দেখা যায় গোটা হাট এলাকা শুনশান নিরাবতা বিরাজ করছে, নেই মানুষের কোলাহল আর পশুদের ডাক চিৎকার। হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা চায়ের দোকান হোটেল রেস্তোরাও ছিল বন্ধ।

মহেশপুর সড়কে লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের সাথে কাজ করছেন পশুহাটের লাইনম্যানের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, লকডাউনে পরপর ৩ হাট বন্ধ রয়েছে। হাটে লাইনম্যানের কাজ করতাম, দিন শেষে ৩শ টাকা দিত কর্তৃপক্ষ, তাতেই চলত সংসার। কিন্তু হাট বন্ধ থাকায় আয় নেই, তাই বাধ্য হয়ে এক জনপ্রতিনিধির সুপারিশে সামান্য পারিশ্রমিকে সড়কে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছি। হাটে কর্মরত শতাধিক ব্যক্তির আমারমত করুন অবস্থায় দিন কাটছে।

হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জালাল উদ্দিন, পিটুল হোসেন, শিমুল হোসেন জানান, পশুহাট পরপর তিনদিন বন্ধ থাকায় কোন মানুষ এলাকাতে আসেনা। তারপর চলছে লকডাউন। দোকানও খোলা যাচ্ছেনা। পরিবার নিয়ে বেশ সমস্যায় দিন কাটছে। পশুহাটে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ইউপি সদস্য গোবিন্দ কুমার বলেন, পশুহাটে শতাধিক গরীব অসহায় মানুষ কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু লকডাউনে হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন। শুধু কর্মচারী না ব্যাপারীরাও রয়েছেন বেশ কষ্টে। সব থেকে বেশি সমস্যায় আছেন এ অঞ্চলের পশু পালনকারীরা। কুরবানীকে সামনে রেখে মানুষ গরু ছাগল পালন করেন। বর্তমান যে সময় চলছে তা কুরবানী পশু কেনা বেচার উত্তম সময়, এই সময়ে হাট বন্ধ থাকায় পশু নিয়ে তারা চিন্তায় আছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে হলেও পশুহাট বসার জন্য তিনি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, পশুহাট বন্ধ থাকায় শুধু যে খামারী বা হাটের সাথে যুক্তরা সমস্যায় পড়েছেন এমনটি না, সরকারও কিন্তু রাজস্ব হারাচ্ছেন। করোনার এই ভয়াল পরিস্থিতির কারনে সাময়িক হাট বন্ধ আছে, কুরবানীর আগে কিভাবে হাট পরিচালনা করা যায় সে ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে আলোচনা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ এনামুল হক বলেন, লকডাউনের কারণে যেহেতু সব কিছু বন্ধ তাই পশুহাটও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কুরবানী ঈদের আগেই পশুহাট চালানো যাবে, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। #