আম্পানে ক্ষতিগ্ররস্ত গাছ চৌগাছার গাছ আজও ফসলি জমিতে

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) থেকে ::  যশোরের চৌগাছার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সরকারী সড়কের পাশে ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়া বিভিন্ন ধরনের গাছ আজও সরানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কের পাশের আবাদি জমিতে বিশাল বিশাল গাছ পড়ে থাকায় জমি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে গাছ সরিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জমি মালিকরা।
প্রায় এক বছর ছুই ছুই, ভায়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পান দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা উপজেলার মত যশোরের চৌগাছার সব কিছু যেন তছনছ করে দেয়। ঝড়ের তান্ডবে বসত বাড়ির টিন উড়ে গাছের ডালে বেধে থাকে। উঠতি ফসল জমির মাটির সাথে মিশে যায়, ঘরের উপর গাছ পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় মা ও মেয়ের। সরকারী সড়কের পাশে বিশাল বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে পাশে ফসলি জমি কিংবা পাকা সড়কের উপর। বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে কয়েক দিন। বয়োবৃদ্ধরা মন্তব্য করেন ১০০ বছরেও তারা এ ধরনের ঝড় আর দেখেনি। ভয়াবহ সেই দিনটি প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে তারপরও সরকারী সড়কের পাশে উপড়ে ও ভেঙ্গে থাকা অসংখ্য গাছ আজও অপসারণ করা হয়নি। এরফলে সড়ক সংলগ্ন জমি মালিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল উপজেলার সিংহঝুলী, পাশাপোল ও সদর ইউনিয়নে যেয়ে দেখা যায়, সরকারী সড়কের পাশে আজও পড়ে আছে বিশাল আকৃতির গাছ গুলো। বিশেষ করে চৌগাছা-যশোর ও চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের পাশে পড়ে থাকা গাছ বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি বাজারের পর সড়কের পাশে সারিবদ্ধ ভাবে পড়ে আছে নানা প্রজাতির গাছ। পাশে ফসলি জমির বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়ে এই গাছ পড়ে থাকায় ওই জমিতে আবাদ করতে কৃষকের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানান, প্রায় ১ বছর আগে সরকারী এই গাছ সড়ক ও ফসলি জমিতে উপড়ে পড়ে। ঘটনার পর সরকারী লোকজনের সহায়তায় স্থানীয়রা সড়কের উপর গাছ সরিয়ে চলাচল উপযোগী করলেও জমিতে গাছ পড়ে থাকে। এক বছর হলো অথচ গাছ সরানোর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মামলার ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকর এই গাছ সরানোর কাজও করতে পারছেনা। বিশাল বিশাল এই গাছের মূল্য লাখ লাখ টাকা হলেও তা বিক্রি বা কেটে নেয়ার কোন উদ্যোগ নেই। এ সময় অনেকে মন্তব্য করেন, ’সরকারী মাল তো দরিয়ামে ঢাল’ সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরের দিন সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কথামত আমি পাকা সড়কে পড়ে থাকা গাছ সরাতে যাই। স্থানীয় লেবার দিয়ে গাছ কেটে সড়ক পরিস্কার করতে থাকি। এমন সময় জেলা পরিষদের একজন সদস্য সেখানে এসে বলেন, এ গাছ জেলা পরিষদের কার কথা মত আপনি কাটছেন। তার আচারনে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে চলে আসি, এরপর হতে কোন খোঁজ খবর রাখিনা।
যশোর জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমান জানান, ঝড়ে উপড়ে পড়া অনেক গাছই সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখনও যে সব গাছ আছে তা সরানোর ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি, দ্রুত সময়ে পড়ে থাকা সব গাছ সরিয়ে নেয়া হবে বলে তিনি জানান।#