অনাবৃষ্টিতে আগাম চাষ করা পাট নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চৌগাছা :: বছরের পর বছর পাটের কাংখিত মুল্য না পাওয়ায় কৃষক পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচচ্ছিলো। তবে গেল কয়েক বছর পাটের বাজার দর ভাল থাকায় কৃষক আবারও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তবে অনাবৃষ্টিতে আগাম চাষ করা পাট নিয়ে কৃষকরা বেশ বিপাকে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন, চলতি বছরের এ পর্যন্ত ১৪শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বোরো ধান উঠার পর আরও বেশ কিছু জমিতে পাট চাষ হবে। গত বছর উপজেলাতে ২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। এ বছর তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গতকাল উপজেলার চাঁনপুর, মন্মতপুর, লস্কারপুর, বেড়গোবিন্দপুর ও দিঘলসিংহ মাঠে যেয়ে দেখা যায়, কৃষক পাট ক্ষেত থেকে আগাছা নিধোন, ক্ষেতে সেচ প্রয়োগ সহ নানা কাজে ব্যস্ত। এ সময় কথা হলে কৃষকরা জানান, এমন এক সময় গেছে পাটকে সোঁনালী আশ বলতাম। কিন্তু প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে পাটের দাম না পাওয়ায় সোনালী আঁশ বলাতো দুরের কথা, পাট চাষই কম করে দেয়া হয়। অনেকেই পাট চাষ বাদ দিয়ে ওই জমিতে অন্য ফসলের চাষ শুরু করে। কিন্তু গত কয়েক বছর পাটের দর মোটামুটি ভাল হওয়ায় আবারও পাট চাষ শুরু করেছি। তবে এ বছর কোন বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছেন তারা।
সূত্র জানায়, ধান ও গম বাংলাদেশের প্রধান দু’টি খাদ্য শয্য। বছরের পর বছর একই জমিতে ধান এবং গমের আবাদ করা হলে পরিবেশগত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ধান ও গমের শিকড় মাটির ৩/৪ ইঞ্চির বেশি গভীরে যেতে পারেনা। তাছাড়া শিকড়ের নিচে একটি শক্ত আস্তরণ সৃষ্টি হয়। এর নিচে গাছের খাদ্য উপাদান জমা হয়। ধান ও গমের শিকড় সেখনে পৌছাত পারেনা। এ অবস্থায় ফসল-চক্রে পাট চাষ করা হলে পাটের ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা শিকড় মাটির তলার শক্ত আস্তরণ ভেঙ্গে ফেলে এবং নিচের স্তর থেকে খাদ্য গ্রহন করে। পাট গাছ জমি থেকে যে খাদ্য খায় তার ৬০ ভাগ খাদ্য সে জমিতে পাতা ফেলার মাধ্যমে ফিরিয়ে দেয়। তাই ধান গম এবং অন্যান্য ফসলের আবাদ টিকিয়ে রাখতে হলে শস্য পর্যায়ে পাট চাষ অবশ্যই করতে হবে।
পাট পরিবেশ বান্ধব বহুমুখী ব্যবহার যোগ্য আঁশ। শিল্প বিপ্লবের সময় ফ্লাক্্র এবং হেম্প এর স্থান দখল করে পাটের যাত্রা শুরু। বস্তা তৈরীর ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। পাটের আঁশের প্রধান বৈশিষ্ঠ হচ্ছে অন্য অনেক আঁশের সঙ্গে মিশ্রন করে ব্যবহার করা যায়।
কৃষিপন্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি বস্তাবন্দি ও প্যাকিং করার জন্য ব্যাপকভাবে পাট ব্যবহার করা হয়। পাটাখড়ি পাট চাষের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষন। ঘরের বেড়া, ছাউনী, জ্বালানী হিসেবে পাটখড়ি ব্যবহার করা হয়। পাটের শাক বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন এলাকাতে পাটের কচি পাতাকে সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এটি’নারিস শাক” হিসেবে পরিচিত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রইচ উদ্দিন বলেন, নানা কারনে চৌগাছাতে পাট চাষ কমে যায়। তবে গত কয়েক বছরে তা সন্তোষজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি অফিস চাষিদের সব বিষয়ে সর্বদা সহযোগীতা প্রদান করে যাচ্ছে। #